Padma Ekadashi 2022

(একাদশীতে কী কী করা এবং খাওয়া উচিত নয়
 
একাদশী একটি চান্দ্র তিথি। চাঁদের শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথি, হিন্দু ধর্মমতানুসারে পূণ্যতিথি হিসেবে বিবেচিত। হিন্দুধর্মমতে এ দিন বিধবাদের, বিশেষত উচ্চবর্ণীয় বিধবাদের নিরম্বু উপবাস বিহিত। অবশ্য বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে যে কেউ একাদশী পালন করতে পারেন। এই সময় সাধারণত ফলমূল ও বিভিন্ন সবজি এবং দুধ খাওয়া যায়। তবে একাদশীতে পঞ্চরবি শস্য বর্জন করা বাঞ্ছনীয়।
 
এখন দেখে নেওয়া যাক একাদশীতে কোন পাঁচ প্রকার রবিশস্য গ্রহণ নিষিদ্ধ:
 
১। ধান জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন চাল, মুড়ি, চিড়া, সুজি, পায়েস, খিচুড়ি, চালের পিঠা, খই ইত্যাদি
 
২। গম জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন আটা, ময়দা, সুজি, বেকারির রুটি, সব রকম বিস্কুট, হরলিকস ইত্যাদি।
 
৩। যব বা ভূট্টা জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন ছাতু, খই, রুটি ইত্যাদি।
 
৪। ডাল জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন মুগ, মাসকলাই, খেসারি, মুসুরী, ছোলা, অড়হর, মটরশুঁটি, বরবটি ও সিম ইত্যাদি।
 
৫। সরষের তেল, সয়াবিন তেল, তিল তেল ইত্যাদি। উপরোক্ত পঞ্চ রবিশস্য যে কোনও একটি একাদশীতে গ্রহণ করলে ব্রত নষ্ট হয়।)
 
অদ্য ভগবান শ্রীবামনদেবের দশ বা ষোড়শ উপচারে পূজা।“ ও ভগবতে বাসুদেবায়” এ মন্ত্রে আসন, পাদ্য, আচমন, ও অর্ঘ্য প্রভৃতি করবে। নৈবেদ্য, ক্ষীর, পুলি, সন্দেশ, পায়স, শালি তণ্ডলের অন্ন, ডাল, শাক, ভাজী, বিবিধ ব্যঞ্জন, বিবিধ মিষ্ট, বিবিধ ফল ও সৌগন্ধ পুষ্প মাল্যাদি, বিশেষ কদম্ব, কেতকী, ও দ্রোণ পুষ্প এ মাসে ভগবানের অতি প্রিয়। বামনদেবকে লাল বস্ত্র, দন্ড, ছত্র, কমণ্ডলু, পাদুকা ও সিধা অর্পণ করবে।
 
প্রণাম–নমো ব্রহ্মণ্য দেবায় গো ব্রাহ্মণ হিতায় চ।
জগদ্ধিতায় কৃষ্ণায় গোবিন্দায় নমো নমঃ।।
 
দ্বিপ্রহরে ভোগ অর্পণানন্তর আরতি, সংকীর্ত্তন, দণ্ডবৎ, স্তবপাঠ, দণ্ডবৎ পরিক্রমা অতঃপর বামন চরিত শ্রবণ।
 
কথারম্ভ— শ্রীমদ্ভাগবতে সুত শৌনক সংবাদে—
নমস্তে দেবদেবেশ শঙ্খচক্রগদাধর।
ভক্তেচ্ছোপাত্তরূপায় পরমাত্মন্ নমোস্ত তে।।
–(ভাঃ ১০ ৫৯(২৫)
 
ভক্তের সুখ সাধন ও ভক্তের ইচ্ছা পূর্ণ করবার জন্য ভগবান ভক্তবৎসল ভক্তের জন্য সর্ব্ববিধ রূপ, সর্ব্ববিধ কর্ম, কপটতা, শঠতা, চৌর ও মিথ্যাৎচন প্রভৃতি বলতে পশ্চাদপদ হন না।
 
অদিতি মাতার গর্ভ হতে প্রকট হয়ে ভগবান বামন ক্ষুদ্র নরশিশু মূর্তি ধারণ করলেন। এ বামন মূর্ত্তি মোহিনী অবতার সম সর্ব্বলোকের মোহনকারী মূৰ্ত্তি। কশ্যপমুনি তার দ্বিজাতি সংস্কার প্রদান করলেন। ভগবান বামনদেব এবার বলিরাজকে মোহন করবার জন্য তার যজ্ঞাভিমুখে চললেন। বলিরাজ অসুরাধিপতি হলেও বৈষ্ণব ব্রাহ্মণগণের সেবা পরায়ণ। তজ্জন্য তার মর্য্যদাহানি করতে চাইলেন না। তিনি ছলনা করে তার সর্ব্বস্ব হরণ করতে প্রবৃত্ত হলেন। যখন তিনি অদ্ভুত বামন মূর্ত্তিতে যজ্ঞ সভায় উপস্থিত হলেন, তখন তাঁর প্রভাবে সকলেই বিমোহিত চমৎকৃত হলেন।
 
তৎকালে বলিরাজা বুঝতে পেরেছিলেন ব্রাহ্মণবটু ব্রহ্মা চারী দান নেবার জন্যই এসেছেন। মহারাজ বলি বললেন-হে পূজ্যতম ! গো, সুবর্ণ যথেষ্ট সম্পদযুক্ত গৃহ, স্বাদু অন্নপানাদি অথবা ব্রাহ্মণ কন্যা সমৃদ্ধ গ্রাম, অশ্ব, গজ, রথ যাহা আপনার অভিলষিত, তাহাই গ্রহণ করুন। কারণ আপনাকে যাচক বলিয়াই মনে করিতেছি।
 
বলি মহারাজের এতাদৃশ উদারতাপূর্ণ বচন শ্রবণে ভগবান বামনদেব বললেন—হে মহারাজ! তোমার ঐহিক ব্যবহারে ভৃগুগণ, পারলৌকিক ধৰ্ম্মে কুলবৃদ্ধ পিতামহ প্রহ্লাদ উপদেশ কর্তা। তোমার এতাদৃশ বাক্য ধর্মযুক্ত, কুলোচিত এবং যশস্কর হয়েছে। তোমার এ বংশে এ পর্য্যন্ত নীচমনা বা কৃপণ ব্যক্তি জন্মগ্রহণ করে নাই – যিনি যাচক ব্রাহ্মণকে প্রত্যাখ্যান করেছেন অথবা প্রতিশ্রুত হয়ে দান করেন নাই।
 
হে দৈত্যরাজ ! বরদাতৃগণের অগ্রগণ্য আপনার নিকট আমি কেবলমাত্র নিজপদ পরিমিত ত্রিপাদ ভূমি প্রার্থনা করছি।
 
একথা শ্রবণে বলি মহারাজ হাস্য করে বললেন- হে ব্রাহ্মণ কুমার ! তোমার বাক্যসকল বৃদ্ধগণেরও আদরণীয়, কিন্তু তুমি বালক এবং তোমার বুদ্ধি নিতান্ত অজ্ঞের ন্যায়। এজন্য তুমি নিজ স্বার্থবিষয়ে বস্তুতঃই অজ্ঞান।
 
হে বালক! আমার নিকট যাচ্ঞা কর, আর অন্যের নিকট যাচ্ঞা করবার প্রয়োজন হবে না। অতএব তুমি স্বকীয় জীবিকা নিৰ্ব্বাহ যোগ্য প্রচুর ভূমি গ্রহণ কর।
 
শ্রীবামনদের বললেন-হে রাজন। ত্রিলোক মধ্যে যে সকল পরমপ্রিয় বিষয়সমূহ রয়েছে সেই সকল দ্রব্য অজিতেন্দ্রিয় ব্যক্তির কামনাপূর্ণ করতে কদাপি সমর্থ নহে। ত্রিপাদ ভূমিতে আমার সন্তোষ না হলে নববর্ষের সহিত একটি দ্বীপ লাভেও আমার কামনা পূর্ণ হবে না।
 
প্রারব্ধ কর্মবশে লভ্য বস্তুদ্বারা সন্তুষ্ট ব্যক্তিগণ সুখে অবস্থান করে । অজিতেন্দ্রিয় অসন্তুষ্ট ব্যক্তিগণ ত্রিলোক লাভ করলেও কদাপি সুখী হয় না । অতএব দাতৃগণের শ্রেষ্ঠ আপনার নিকট আমি ত্রিপাদ ভূমিমাত্রই কামনা করি। ইহাতেই আমি কৃতার্থ হব।
 
ভগবান এরূপ কথা বললে দৈত্যপতি হাস্যপূর্বক বললেন- তোমার ইচ্ছানুসারে তুমি গ্রহণ কর। অতঃপর বামনদেবকে দৈত্যপতি ভূমি দান করবার জন্য জলপাত্র করলেন। জ্ঞানীশ্রেষ্ঠ শুক্রাচার্য্য তৎকালে বিষ্ণু অভিপ্রায় বুঝতে পেরে বলিরাজকে বললেন – দৈত্যপতি বলি ! ইনি অব্যয় পুরুষ বিষ্ণু। দেবতাগনের কাৰ্য্য সাধনার্থে কশ্যপ হতে অদিতিগর্ভে জন্মগ্রহণ করেছেন। এক ব্রহ্ম চারীবেশী হরি তোমার ঐশ্বর্য, শ্রী, তেজ, যশ ও জ্ঞান সমস্ত হরণ করতঃ ইন্দ্রকে দান করবে। তুমি এ কপট ব্রহ্ম চারীবেশী হরিকে সর্ব্বস্ব দান করবে না। মুঢ় বিষ্ণুকে সৰ্ব্বস্ব দিলে তুমি কিরূপে জীবন নির্ব্বাহ করবে? তোমার স্বজনগণ কি উপায় করবে? ইনি একপদ বিন্যাসে পৃথিবী, দ্বিতীয় পদ বিন্যাসে স্বর্গ এবং শরীরের দ্বারা অন্তরীক্ষ অধিকার করবেন। তখন তৃতীয় পদ রাখবর স্থান থাকবে না। প্রতিশ্রুতি দানে অসমর্থ হলে নিশ্চয় তুমি নরকে স্থিত হবে। এ দানে নিজের জীবিকা পৰ্য্যস্ত বিপন্ন হবে।
 
বলিরাজ বললেন–হে গুরো। আমি ব্রাহ্মণকে বঞ্চিত করতে যেরূপ ভয় পাচ্ছি – নরক, দারিদ্র্য, দুঃখসমূহ, স্থানচ্যুতি কিম্বা মৃত্যু হতেও সেরূপ ভীত নই।
 
হে গুরো! ইনি যদি সেই উত্তমশ্লোক শ্রীবিষ্ণু হন, তবে তাঁর জন্যই এ যজ্ঞের অনুষ্ঠান। অতএব তিনি যা করবেন, তাহাই উত্তম বলে আমি মনে করি। আমি প্রতিশ্রুতি কদাপি লঙ্ঘন করতে পারব না।
 
বলি মহারাজ একথা বললে, গুরু শুক্রাচার্য্য তদীয় শিষ্য বলিরাজকে অভিশাপ প্রদানপূর্ব্বক বলতে লাগলেন, তুমি— পণ্ডিতাভিমানী এবং বিনয় রহিত। আমার আজ্ঞা লঙ্ঘনকারী বলে তোমার শীঘ্রই শ্রীভ্রষ্ট হউক। এ বলে শুক্রাচার্য্য স্থান ত্যাগ করলেন।
 
বলি মহারাজ গুরুর দ্বারা এরূপ অভিশপ্ত হয়েও বিন্দুমাত্র বিচলিত হলেন না, বামনদেবকে ভূমি দান করতে উদ্যত হলেন। মুক্তমালা ধারিণী বলিপত্নী বিন্ধ্যাবলী তৎকালে পাদপ্রক্ষালনের জন্য বারিপূর্ণ সুবর্ণ কলস নিয়ে উপস্থিত হলেন। যজমান বলি হর্ষসহকারে শ্রীবামনদেবের শ্রীচরণ যুগল ধৌতপূর্ব্বক বিশ্বপাবন ঐ চরণামৃত মস্তকে ধারণ করলেন।
 
তৎকালে স্বৰ্গস্থিত দেবতা, গন্ধর্ব্ব, বিদ্যাধর ও সিদ্ধগণ আনন্দ সহকারে বলির এবম্বিধ কর্মের সহস্র প্রশংসা করতে লাগলেন এবং অসুরপতির উপর পুষ্প বৃষ্টি করতে লাগলেন।
 
সেইকালে অনন্তর শ্রীহরির বামনরূপ বর্দ্ধিত হতে লাগল। পৃথিবী, আকাশ, দিগ্‌সকল, সমুদ্র, পশুপক্ষী, মনুষ্য, দেবতা ও ঋষিগণ ঐ বিগ্রহে অবস্থিত ছিল।
 
মহারাজ বলি মহাবিভূতিশালী ভগবানের শরীরে সমগ্র জীবগণের সহিত এ নিখিল বিশ্ব দর্শন করতে লাগলেন। বিশ্বরূপধারী মহাপুরুষের পদতলে রসাতল প্রভৃতি সপ্তলোক, পদযুগলে পৃথিবী, জঙ্ঘাদ্বয়ে পৰ্ব্বতসকল, জানুতে পক্ষিসমূহ, উরুদ্বয়ে বায়ুগণকে, পরিহিত বসনে সন্ধ্যাদেবী, গুহাদেশে প্রজাপতিগণ, কটির সম্মুখভাগে নিজের সহিত অসুরগণ, নাভিমণ্ডলে আকাশ, কুক্ষিদেশে সপ্ত সমুদ্র এবং বক্ষোদেশে নক্ষত্ররাজি দর্শন করলেন।
 
তৎকালে সমস্ত অসুর বিশ্বরূপী শ্রীহরির শরীরে এ নিখিল ভুবন, সুদর্শন চক্র এবং শাঙ্গ নামক ধনু দর্শন করে অত্যন্ত খেদ প্রাপ্ত হল।
 
অতঃপর ভগবান বামনদের ত্রিবিক্রম রূপে এক পদবিন্যাসে ভূ লোকস্থ যাবতীয়ভূমি, দ্বিতীয় পদে স্বর্গাদি সপ্তলোক আক্রমণ করলে তৃতীয় পদবিন্যাসের জন্য বলির অনুমাত্র স্থানও বর্ত্তমান রইল না।
 
এ সময় বামনদেবের সেই বিশ্বরূপ দর্শনে অসুরগণ পরস্পর বলতে লাগল—এ বামন নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণ নহে পরন্তু মায়াবীগণের শ্রেষ্ঠ বিষ্ণু। ব্রাহ্মণ বেশে নিজরূপ গোপন করতঃ দেবতাদিগের উপকার করতে ইচ্ছা করছে। আমাদের প্রভু যজ্ঞার্থ দণ্ড পরিত্যাগ করায় আমাদের চিরশত্রু বিষ্ণু বালকবেশে যাচকরূপে তার সর্ব্বস্ব হরণ করছে। অতএব এ বামনরূপী বিষ্ণু বধই আমাদের ধর্ম ও স্বামী সেবা। এরূপ নিশ্চয় করে অসুরগণ শ্রীবামনকে বধ করবার জন্য অস্ত্র ধারণ করল। বলি মহারাজ অসুরগণকে তৎকালে ঐরূপ কার্য্য থেকে বিরত হতে বললেন।
 
শ্রীবামনদেবের প্রতি অসুরগণ অস্ত্র ধারণ করলে তৎক্ষণাৎ বৈকুন্ঠ পার্ষদগণ তথায় বিবিধ আয়ুধ ধারণ পূর্ব্বক প্রকট হলেন এবং সমগ্র অসুরগণকে নিমেষকাল মধ্যে বিতাড়িত করলেন। অসুরগণ বিতাড়িত হয়ে পাতালে প্রবেশ করল।
 
অনন্তর গরুড় প্রভুর অভিপ্রায়ানুসারে বলিরাজকে বরুণ পাশের দ্বারা বন্ধন করলেন। বলিরাজ বন্দি হলে স্বর্গ ও পৃথিবী সমস্ত দিকব্যাপী হাহাকার ধ্বনি উত্থিত হল।
 
ভগবান চিরকাল ভক্তকে পরীক্ষা করে থাকেন। ভক্তের নিষ্ঠা উহাতে জগতে খ্যাতিই লাভ করিয়া থাকে। বন্ধনে বলিরাজ বিন্দুমাত্রও বিচলিত হলেন না।
 
পিতামহ ব্রহ্মা সমস্ত দেবতাগণ সহ তৎকালে তথায় উপস্থিত হলেন ও বলির বন্ধনে সকলেই খেদযুক্ত হলেন। সকলে বলতে লাগলেন বলি কদাপি সত্য ধর্ম হতে পদমাত্র বিচলিত হয়নি তথাপি প্রভুর এ কি লীলা, কেন তাকে বন্ধন করলেন?
 
ব্ৰহ্মা বললেন-হে ভূতভাবন। হে ভূতেশ। হে দেবদেব ! আপনি বলির সর্ব্বস্ব হরণ করেছেন, এখন ইহাকে মুক্ত করুন, বলি কদাপি দণ্ডযোগ্য নহে। নিষ্কপটে আপনার শ্রীচরণে সলিলমাত্র দান এবং দুর্বাঙ্কর দ্বারা পূজাকারীকে যখন উত্তমগতি দান করেন, এ বলি ঐ পদযুগলে অকাতর চিত্তে ত্রিভুবন দান করে কি জন্য বন্ধন দুঃখভাগী হবে !
 
তার উত্তরে ভগবান্ বললেন—হে ব্রাহ্মণ। পুরুষ যে অর্থবশতঃ মত্ত ও স্তব্ধ হয়ে ত্রিজগৎ এমনকি জগৎপতি আমাকেও অবজ্ঞা করে, আমি যাকে অনুগ্রহ করি, তার তাদৃশ অর্থই হরণ করে থাকি। বলিকে আমি দেবগণেরও দুর্ল্লভ পদ দান করব। সে ভবিষ্যৎ সাবর্ণি মনুর কালে ইন্দ্রপদ লাভ করবে।অধুনা বলি বিবিধ তাপাদি নির্মুক্ত হয়ে আমার আজ্ঞায় সুতলে বিশ্বকর্মা অধুনা বলি বিবিধ রচিত দিব্য পুরে পিতামহের সহিত সুখে বাস করবে। আমি তাঁকে সেই সুতল পুরে সানুগ ও সুদর্শন চক্রের সহিত সতত রক্ষা করব। অতঃপর বলি মহারাজ বললেন—
 
“করোম্যুতং তন্ন ভবেৎ প্রলম্ভনং
পদং তৃতীয়ং কুরু শীর্িষ্ণ মে নিজম্।।”
(ভাঃ ৮|২২|২)
 
হে উত্তমশ্লোক ! আপনি আমার বাক্য সত্য করুন, আপনার তৃতীয় পদ আমার মস্তকে বিন্যাস করুন। অদ্যাপি পিতামাতা ও ভ্রাতা হতে যে দণ্ড আমি পাইনি, পরম পূজ্য আপনার কর্তৃক বিহিত সেই দণ্ড পুরুষদিগের পক্ষে শ্লাঘ্যতম বলে মনে করছি। আপনি নিশ্চয় আমাদের অসুরগণের পরোক্ষে পরম হিতকারী। আপনাতে দৃঢ় এবং অবিচ্ছিন্ন শত্রুভাবের দ্বারা অনেক অসুর যোনিগণের লভ্য সিদ্ধিপ্রাপ্ত হয়েছে।
 
অহো ! আপনার প্রতি প্রণাম উদ্যমকারীর কি আশ্চর্য্য মহিমা ! প্ৰপন্ন ভক্তগণ যে শ্রীপাদপদ্মধন পেয়ে থাকেন, আপনি প্রণাম উদ্যমকারীকে তাও প্রাপ্তি বিধান করে থাকেন। আজ পর্য্যন্ত লোকপালগণ আপনার যে কৃপা প্রসাদ প্রাপ্ত হতে পারেনি সেই প্রসাদ অসুরকে অর্পণ করলেন। সেইকালে মহারাণীও বিবিধ স্তুতিবাক্য দ্বারা ভগবানকে স্তব করলেন।
 
এমন সময় প্রহ্লাদ মহারাজ ঐ স্থানে উপস্থিত হলেন এবং পৌত্র বলির প্রতি ঐ কৃপা প্রসাদ দর্শন করলেন। তখন তিনি প্রেমাশ্রুসিক্ত নয়নে স্ততি করলেন।
 
হে ভগবান ! আপনি এ বলিকে মহাসম্পদশালী ইন্দ্ৰ পদৰী প্ৰদান করেছিলেন, আজ আবার উহা হরণ করলেন। ইহা সঙ্গতই হয়েছে। ইহার প্রতি মহান অনুগ্রহই করা হয়েছে বলে আমি মনে করছি।
 
অনন্তর বলি মহারাজ ভগবানের নির্দেশ মত প্রহলাদ মহারাজকে অগ্র করে সমস্ত কুটুম্ব পরিবার সহ সুতল পুরে গমন করলেন। তার রক্ষী হিসাবে বামনদেব চতুর্ভুজরূপে তার দ্বারে নিত্য অবস্থিত হলেন। প্রেম-পুলকিত সাক্ষাৎ চিত্তে নিত্য পিতামহের সহিত তার মহিমা গান, সেবা ও অর্জ্জন করতে লাগলেন।
 
ভগবান্ ভক্তের দ্বারে বন্দী হন। এবার বলির দ্বারে দ্বারপাল হলেন। ভক্তের জন্য ভগবান হেন দুঃসাধ্য কর্ম নাই যাহা তিনি করতে পারেন না। জয় ভক্তবৎসল ভগবান্ শ্রীবামনদেব কি জয়। যারা শ্রদ্ধন্বিত চিত্তে শ্রীহরিবাসরে এ পবিত্র আখ্যান শ্রবণ, কীর্ত্তন করেন, ভগবান্ তাদের যাবতীয় বাসনা পূর্ণ করে থাকেন।
শ্রীহরিবাসরে যেই অতি ভক্তি ভরে।
হরিলীলা গুণ শুনে একান্ত অন্তরে।।
অবশ্য শ্রীহরি তারে সদয় হইয়া।
উদ্ধারিবে কৃপা করি নিজ পদ দিয়া ৷৷
পুরী-গুরু পাদপদ্ম হৃদে করি আশ।
বামন চরিত গায় হরিজন দাস।।
 
ইতি পার্শ্বপরিবর্ত্তিনী একাদশী বাসরে শ্রীবামনচরিত কথা সমাপ্ত।
 

Related Article

#GaudiyaMission #Gaudiya #prabhupad150 #srilaprabhupad #rathyatra #RathaJatra #rathayatra2024 #harekrishna #rathyatra #JagannathDham
BLOG

শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব

(শ্রীল স্বরূপ দামোদর গোস্বামী প্রভুর তিরোভাব তিথি) ৭ জুলাই ২০২৪, রবিবার শ্রীরথযাত্রা উৎসব শ্রীপুরুষোত্তম-ধামের সর্বপ্রধান উৎসব; ইহার অপর নাম—‘নবযাত্রা’, ‘গুণ্ডিচাযাত্রা’, ‘নন্দিঘোষ-যাত্রা’, ‘পতিতপাবন-যাত্রা’, বা ‘মহাবেদী-উৎসব’”। শ্রীজগন্নাথদেব

Read More »
GaudiyaMission #gaudiyavaishnavism #gudiya #prabhupad #prabhupad150 #Gundicha #puri #Odisha #jagannath #rathajatra2024
BLOG

গুন্ডিচা মার্জনোৎসব

৬ জুলাই ২০২৪, শনিবার জগন্নাথ পুরীতে রথযাত্রার আগের দিনটি হল গুন্ডিচা-মার্জনা। জগন্নাথ, বলদেব এবং সুভদ্রাকে স্বাগত জানাতে গুন্ডিচা মন্দির পরিষ্কার করা হয়। গুন্ডিচা মন্দিরটি জগন্নাথ

Read More »
#GaudiyaMission #Gaudiya #prabhupad #prabhupada #srilaprabhupad #srilaprabhupada #prabhupada150 #prabhupad150 #srilaprabhupad150 #srilaprabhupad #Bhaktivinod #Thakur #bhagwat #disappearance #day #harekrsna #puri #jagannath
BLOG

শ্রীশ্রীগৌর সুন্দরের নিজজন শ্রীল সচ্চিদানন্দ ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের ১১০ তম তিরোভাব তিথি

শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের নেত্রোউৎসব বা নবযৌবনোৎসব শ্রীল গদাধর পন্ডিতের তিরোভাব তিথি ৫ জুলাই ২০২৪, শুক্রবার নমোভক্তিবিনোদায় সচ্চিদানন্দ নামিনে। গৌরশক্তি স্বরূপায় রূপানুগবরায়তে।। শ্রীশ্রীল সচ্চিদানন্দ ভক্তিবিনেদ ঠাকুর মহাশয়

Read More »